বিশেষ প্রতিবেদন:
দেশজুড়ে তীব্র গরমের সঙ্গে জ্বালানি সংকট মিলে ২০২৬ সালের এপ্রিলজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্রই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দিনে ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে, কোথাও কোথাও ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যুতের ঘাটতি সামাল দিতে সরকার এখন শহর এলাকাতেও ট্রায়াল লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে শিল্প, ব্যবসা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সংকটের মূল কারণ কী?
বিদ্যুৎ খাতে চলমান এই চাপের পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। গ্যাস ও কয়লার ঘাটতিতে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আদানি পাওয়ার, বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার এবং পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কিছু ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটি ও জ্বালানি সংকটে বন্ধ বা সীমিত উৎপাদনে রয়েছে।
এর সঙ্গে দাবদাহে বিদ্যুতের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
জনজীবনে ভয়াবহ প্রভাব
অসহনীয় গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, হাসপাতাল ও চিকিৎসা সেবাও চাপের মুখে পড়ছে। শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কমে যাওয়ায় অর্থনীতিতেও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং শুধু সাময়িক ভোগান্তি নয়, এটি উৎপাদনশীলতা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি।
শহর-গ্রামের বৈষম্যও আলোচনায়
দীর্ঘদিন ধরে গ্রামাঞ্চলে তুলনামূলক বেশি লোডশেডিং হওয়ায় বৈষম্যের অভিযোগ ছিল। সেই চাপ সামলাতে এবার শহরেও সমন্বিত লোডশেডিংয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আশার খবর আছে?
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটি দ্রুত মেরামত এবং নতুন কয়লা চালান পৌঁছালে এপ্রিলের শেষ নাগাদ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ছাড়া এ সংকট পুরোপুরি কাটবে না।
বার্তা একটাই:
লোডশেডিং এখন শুধু বিদ্যুতের সংকট নয়, এটি জনজীবন ও অর্থনীতির বড় সতর্কসংকেত। টেকসই সমাধানই এখন সময়ের দাবি।

0 Comments