Header Ads Widget

Responsive Advertisement

যুদ্ধ শেষ’ নাকি আইনি চাল? ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ব্যাখ্যায় তীব্র বিতর্ক


প্রতিবেদন | Daily Fusion 24

ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার মাঝেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় ইরানের সঙ্গে সংঘাত কার্যত “শেষ” হয়ে গেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আইনপ্রণেতাদের একাংশ বলছেন, এটি মূলত কংগ্রেসের অনুমোদন এড়ানোর কৌশলী ব্যাখ্যা।

বৃহস্পতিবার মার্কিন সিনেটের শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আর সরাসরি সংঘর্ষ হয়নি। তার ভাষায়, “যুদ্ধবিরতির মাধ্যমেই সংঘাতের সমাপ্তি ঘটেছে।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন মূলত ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ আইনের ৬০ দিনের সীমাবদ্ধতাকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট কোনো সামরিক অভিযান শুরু করলে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়, না হলে অভিযান বন্ধ করতে হয়।

হোয়াইট হাউসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া শত্রুতা এখন কার্যত বন্ধ। ফলে আইনি হিসাবেও যুদ্ধের সময়সীমা আর প্রযোজ্য নয়।”

তবে বাস্তব পরিস্থিতি এখনো অনেকটাই উত্তেজনাপূর্ণ। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরান এখনো সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীও ইরানি তেলবাহী জাহাজের চলাচলে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রেখেছে।

এ অবস্থায় ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাখ্যাকে “বিপজ্জনক নজির” হিসেবে দেখছেন বিরোধীরা। রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স বলেন, “কংগ্রেসের অনুমোদন কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি সাংবিধানিক দায়িত্ব।”

ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইনের ভাষায়, “যুদ্ধবিরতি মানেই আইনি সময়সীমা থেমে যাবে, এমন ব্যাখ্যার কোনো ভিত্তি নেই।”

বিশেষজ্ঞরাও একই সুরে কথা বলছেন। ব্রেনান সেন্টারের আইনি বিশ্লেষক ক্যাথরিন ইয়ান এব্রাইট বলেন, “ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশনে কোথাও বলা নেই যে যুদ্ধবিরতির কারণে সময়সীমা স্থগিত হবে।”

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মহল নতুন কৌশল নিয়েও ভাবছে। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক কর্মকর্তা রিচার্ড গোল্ডবার্গ প্রস্তাব দিয়েছেন নতুন নামে সামরিক অভিযান চালানোর। তার মতে, “আত্মরক্ষামূলক মিশন” হিসেবে উপস্থাপন করা গেলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন উপস্থিতি বজায় রাখা সম্ভব হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রের সংঘর্ষ যতটা না ভয়ংকর, তার চেয়েও জটিল হয়ে উঠছে এর আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই। এখন প্রশ্ন একটাই, সত্যিই কি যুদ্ধ শেষ, নাকি এটি শুধুই নতুন কৌশলের শুরু?

Post a Comment

0 Comments