Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি, হরমুজে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করলেন ট্রাম্প

 


ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি, হরমুজে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করলেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে নতুন মোড় নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক। ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধ এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কেন স্থগিত করা হলো ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’?

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত করা সম্ভব কি না, তা পর্যবেক্ষণের জন্যই সামরিক অভিযান আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরাসরি সামরিক সংঘাত এড়ানোর কৌশল হতে পারে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখারও একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কী ছিল ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’?

হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বিভিন্ন দেশের জাহাজকে নিরাপদে চলাচলে সহায়তা করতে সোমবার সকাল থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি বিশেষ অভিযান শুরু করে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতাকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল বলে আখ্যা দিয়েছে ইরান। দেশটি আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, হরমুজে মার্কিন উপস্থিতি বাড়ানো হলে তারা তা প্রতিরোধ করবে।

ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক মহলের নজর

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতার বিষয়টিও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

এখন দেখার বিষয়, আলোচনার এই অগ্রগতি শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে রূপ নেয় কি না, নাকি আবারও উত্তেজনার পথেই এগোয় ওয়াশিংটন ও তেহরান।

Post a Comment

0 Comments